ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের সম্মিলিত মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ২১তম ধাপের এই অভিযান শুরু করা হয়। এতে তেল আবিব শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইমাম হাসান আল-মুজতবা (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ইয়া মুয়াজ আল-মুমিনিন’ কোডনামে এই অভিযান চালানো হয়।
হামলায় ইরানের অত্যাধুনিক ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ২১তম দফার হামলা প্রমাণ করে যে দেশটির মিসাইল প্রযুক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ফুটেজে দেখা গেছে, খাইবার শেকান মিসাইলগুলো মাঝ আকাশে অনেকগুলো ছোট ছোট ওয়ারহেডে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এই প্রযুক্তির কারণে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো রুখতে ব্যর্থ হয়।
মিসাইলগুলো আঘাত হানার সময় ইসরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি। তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে অনেক ভবন এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি তেল আবিবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানটি মিনাব এলাকার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় শহীদ ১৭৫ জন শিশু ও শিক্ষকের স্মরণে উৎসর্গ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও উসকানিমূলক যুদ্ধ’ শুরু করার পর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলাটি চালানো হয়েছিল।
ইরানি কর্মকর্তারা ওই বিমান হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত গণহত্যা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন।
এই ট্র্যাজেডির ঘটনায় পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ নিহত শিশুদের স্মরণে বিভিন্ন শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
এ ছাড়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ৭ দিন গড়িয়েছে। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।