জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা বিল নিয়ে সংসদে ঐকমত্য: ইনডেমনিটি কি নতুন বিতর্কের সূচনা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘যোদ্ধাদের’ আইনি সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সহিংসতায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না—পুলিশের পোশাক পরা সন্ত্রাসীরাও নয়।
প্রকাশের সময়
আপডেট: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ৫:৫৫ PM
ডেস্ক রিপোর্ট
দেশজুড়ে আলোচিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’। সেই উত্তাল সময়ের রহস্য, সংঘর্ষ আর রক্তাক্ত ঘটনার প্রতিধ্বনি এখনও থামেনি। আর সেই প্রেক্ষাপটেই এবার নতুন মোড়—‘জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ সংসদে বিল আকারে পাসের বিষয়ে তৈরি হয়েছে ঐকমত্য।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমন তথ্য জানান, যা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি বা আইনি সুরক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল—যা এখন সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপনের পথে।
তবে এখানেই শেষ নয়—
১৩৩টি অধ্যাদেশের সঙ্গে এই অধ্যাদেশও এখন বিশেষ সংসদীয় কমিটির অধীনে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে। আগামী ২০ তারিখ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। মন্ত্রীর ভাষায়, “সর্বসম্মতিক্রমে এটি পাস করার বিষয়ে সবাই একমত।”
আইন, বিচার ও বিতর্কের ছায়া
গণঅভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতা নিয়ে এখনও উত্তেজনা কমেনি। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ থেকে উঠে আসছে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ।
মন্ত্রী কঠোর ভাষায় জানান—
যারা আন্দোলনের সময় পুলিশের পোশাক পরে হামলা চালিয়েছে,
কিংবা যে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে সহিংসতায় জড়িয়েছে,তারা কেউই রেহাই পাবে না।
“যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন, অপরাধ করলে সে অপরাধী”—স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
রণক্ষেত্রের বাস্তবতা—মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
মন্ত্রী আরও বলেন, সেই সময়টা ছিল একেবারেই ‘রণক্ষেত্রের মতো’।
গণহত্যার মতো সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধে কিছু প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে থাকতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটেই ‘জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা’ দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলমান বিচার ও তদন্ত
বর্তমানে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে—
কিছু আইসিটি আইনে,কিছু সাধারণ ফৌজদারি আইনে।
তদন্ত চলছে, চার্জশিট প্রস্তুত হচ্ছে,ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলার বিচার লাইভ সম্প্রচারও শুরু হয়েছে
মন্ত্রী জানান, “সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সময় লাগবে, তবে প্রক্রিয়া চলছে।”
সংসদে প্রশ্ন ও নতুন ইঙ্গিত
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জানতে চান—,পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, ‘পুলিশ হত্যা’ ইস্যুতে বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের উদ্যোগ কী।
জবাবে মন্ত্রী এক চমকপ্রদ মন্তব্য করেন—
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত পুলিশ সদস্যদের বিচার মূলত যুদ্ধক্ষেত্রেই হয়ে গেছে।”
এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামনে কি আরও বড় রাজনৈতিক ঝড়?
একদিকে ‘সুরক্ষা’, অন্যদিকে ‘বিচার’—
এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংসদে বিল পাস হলে—
কারা সুরক্ষা পাবে,কারা বিচারের মুখোমুখি হবে,
আর সত্যটা কোথায় দাঁড়াবে,এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।