
উচ্ছেদ নয়, মানবিক পূর্ণবাসন :নারায়ণগঞ্জের যানজট ও হকার সমস্যার বিকল্প রোড ম্যাপ।আর হবে মাসে ৭৫ লাখ টাকা রাজস্ব, কর্মসংস্থান হবে ২০০ বেকারের। নিজস্ব প্রতিবেদক মোহাম্মদ নুর আলম আকন্দ ৩১মাস ২০২৬।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা যানজট ও ফুটপাত দখল। বারবার উচ্ছেদ অভিযান চললেও কয়েকদিন পর শহর ফিরে যায় আগের রূপে। এই চক্রাকার সংকট নিরসনে এবার এক ব্যতিকর্মী ও বাস্তবায়নযোগ্য মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তাব করেছেন বিশিষ্ট কোভিদ যুদ্ধা ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবক আনোয়ার হোসেন।
তার এই পরিকল্পনায় এক দিকে যেমন কয়েক হাজার হকার পরিবারের জীবিকা রক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে অন্যদিকে উচ্ছেদ ছাড়াই শহরকে যানজট মুক্ত করার এক সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের ডাক :
আনোয়ার হোসেন তার প্রস্তাবে প্রথমেই একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহি মূলক সমন্বয়ে কমিটি গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন।এই কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে বলা হয় , যারা নিজেদের স্বার্থে এই সমস্যার সমাধান চায়না। তাদের চিহ্নিত করে জনসম্মুক্ষে আনা প্রয়োজন।
পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা:বড় অটো রিক্সার প্রস্তাব।
শহরের প্রধান সড়ক অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু সড়কে ছোট অটো রিক্সা বা মিশুক চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট রোডে যেমন মিশন পাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ বড় অটোরিক্সা চালু করার কথা বলা হয়েছে,যার ভাড়া হবে ১০ থেকে ১৫ টাকা ।
ছোট অটো রিক্সা গুলো প্রধান সড়কের মুখে অবস্থান করবে এবং সেখান থেকে যাত্রীদের শাখা শহরগুলোতে পৌঁছে দেবে।এতে মূল সড়কে যানবাহনের চাপ নাটকীয় ভাবে কমে আসবে ।
মানবিক পূর্ণবাসন ও হকার ব্যবস্থাপনা :
শহরে অন্তত ৪ হাজার হকার রয়েছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ঢালাও করে হকার উচ্ছেদ করলে তিন চার হাজার পরিবারকে পথে বসিয়ে দেয়া হবে। সরকারকে সুশৃংখলভাবে পূর্ণবাসনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
৪০০০ মিটার ফুট পাতকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে প্রতি পরিবারকে ১ মিটার বাই এক মিটার জায়গা বরাদ্দ দিলে এক লাইনে ২৫০০ হকার বসানো সম্ভব। এতে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সচল থাকবে এবং মানবিক দিকও বজায় থাকবে।
এক নজরে বিশেষ পরিকল্পনা :
সমন্বয় :সকল দল ও প্রশাসনের সমন্বয়ে শক্তিশালী তদারকি কমিটি ।
পরিবহন :প্রদান সড়কে বড় অটোরিকশা, শাখা সড়কের ছোট মিশুক ।
পূর্ণবাসন :প্রতি হকার কে এক মিটার নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ ।
রাজস্ব :হকারদের বৈধতা দিয়ে প্রতিদিন ১০০ টাকা ফ্রি সংগ্রহ।
নিরাপত্তা :রাজস্বের টাকায় ২০০ জন শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ।
চাঁদাবাজি বন্ধ ও রাজস্ব বৃদ্ধির মডেল :
সবচেয়ে বৈপ্লবিক প্রস্তাবটি এসেছে অর্থায়ন নিয়ে। বর্তমানে একটি অসাধুচক্র হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। আনোয়ার হোসেনের মতে, এই অর্থ যদি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনা যায় এবং প্রতিটি হকারের কাছ থেকে দৈনিক নূন্যতম ১০০ টাকা রশিদের মাধ্যমে আদায় করা হয়, তবে মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা আয় সম্ভব।
এই বিশাল অংকের রাজস্বের টাকা দিয়ে ২০০ জন কর্মীকে দুই শিফটে নিয়োগ দেওয়া যাবে,পরিছন্নতা নিশ্চিত করবে যারা যানজট নিরসন হকারদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শহরের পরিষ্কার পরিছন্নতা নিশ্চিত করবে।
উপসংহার :
পরিকল্পনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সুধী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা যদি উপাসনালয়ে এক কাতারে দাঁড়াতে পারি তবে ৫-৬ লাখ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি লাঘবে কেন এক হতে পারব না।?ধৈর্য, সততা এবং দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি থাকলে এই কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা গেলে নারায়ণগঞ্জ সারাদেশের নগর ব্যবস্থাপনার এক নতুন মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
Leave a Reply