Bdnews Live24 | logo

২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ব্যবসার ক্ষতি, সমঝোতার আশা !

প্রকাশিত : এপ্রিল ২১, ২০২২, ১৫:০১

ব্যবসার ক্ষতি, সমঝোতার আশা !

নিউজ ডেস্ক: ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জের ধরে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সারা দিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সন্ধ্যার আগে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনার পর আবার মিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ অবস্থায় সমঝোতার লক্ষ্যে গত রাতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

গত সোমবার মধ্যরাতে নিউ মার্কেটের দোকান মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। রাতে সংঘর্ষ থামলেও পরদিন গত মঙ্গলবার দিনভর দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে পথচারী নাহিদ হাসান নিহত হন। অর্ধশত শিক্ষার্থীসহ আহত হন শতাধিক। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষ সড়ক ছেড়ে যাওয়ার পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গতকাল সকালে নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতি জানিয়েছিল, দোকান খোলা হবে না। পরে অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির নেতারা দোকান খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর বিকেলে কিছু দোকান খুলতে দেখা যায়। এর পরই সন্ধ্যার আগে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, সংঘর্ষে দুই দিনে নিউ মার্কেট এলাকার ১০ হাজার ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আজও যদি দোকান না খোলা হয়, ফুটপাতসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর এই ক্ষতি আরো বাড়বে।

ঘটনায় তৃতীয় পক্ষ থাকতে পারে

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনায় তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকতে পারে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহাবস্থান কামনা

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঈদকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ চান ব্যবসায়ীরা। তাঁরা কোনো সংঘর্ষ চান না। তাঁরা চান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহাবস্থান।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত, আমরা শান্তি চাই। দোকানপাট খুলতে চাই, এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই। ’

বিভিন্ন সময় ক্রেতাদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকানিদের অসদাচরণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, ‘আমরা দোকানের কর্মীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা নেব। কর্মীদের অনেকে স্বল্পশিক্ষিত, তাদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের সমিতির অফিসে জানাবেন। ’

নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন বলেন, ‘মার্কেট খোলার বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। দুই পক্ষে আলোচনার মাধ্যমে দোকান খোলা হলে আর সমস্যা থাকবে না। ’

শান্তির সাদা পতাকা

ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, নূর ম্যানসন, গাউছিয়া, ইসমাইল ম্যানসনসহ এলাকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক সাদা পতাকা ওড়ান ব্যবসায়ীরা। এরপর ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার আগে ১০-১২টি ককটেলের বিস্ফোরণ হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

সড়কে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাস ও হল বন্ধ রেখে নিউ মার্কেট ও আশপাশের দোকান খুলতে দেওয়ার পক্ষে নন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস, হল খোলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের দাবি জানিয়ে গতকাল বিকেলে তাঁরা কলেজের সামনে মিরপুর সড়কে অবস্থান নেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিকেলে ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক অ্যাকশন’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় নিউ মার্কেটের সামনে ওভারব্রিজের নিচে জড়ো হন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলক্ষেত এলাকায় মিছিল, মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে।

শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি

গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের

আ ন ম নজিবউদ্দিন খান খুররম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি হারুন-অর-রশিদ ও নিউ মার্কেট থানার ওসি স ম কাইয়ুম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এ কারণে এই দুজনসহ রমনা বিভাগের ডিসির প্রত্যাহার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা ১০ দফা দাবি জানান। ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ এই দাবি পড়ে শোনান।

দাবিগুলো হচ্ছে—হামলার উসকানিদাতা ও হামলাকারীদের তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়ভার নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নিতে হবে; নিহত পথচারী নাহিদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; অ্যাম্বুল্যান্সে হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে; দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ডিসি, এডিসি ও নিউ মার্কেট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে কলেজ প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে; প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে সিসিটিভি স্থাপন করা; প্রতিটি মার্কেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করে তার বাস্তবায়ন করতে হবে; ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ কার পার্কিং উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; ক্রেতা ও নারীদের যৌন হয়রানি বন্ধে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে; চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট ও নিউ সুপারমার্কেটে ঢাকা কলেজের সম্পদ লিজ বাতিল করে ফিরিয়ে দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব দাবি অবিলম্বে কার্যকর করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংঘর্ষে বহিরাগতরা

মাথায় হেলমেট পরে হাতে রামদা নিয়ে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে অন্তত ৩০ জন ছিলেন। তাঁদের অনেকেই বহিরাগত বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মন্ত্রী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, এমনকি ঢাকা কলেজের শিক্ষকরাও দাবি করেন, এ ঘটনায় তৃতীয় পক্ষ জড়িত।

পুলিশ দাবি করছে, এদের মধ্যে উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের লোকজনও থাকতে পারে। তৃতীয় পক্ষ খুঁজতে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ, বিশেষ করে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আরো অনেক গোষ্ঠীর এতে ইন্ধন দেওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের ধরতে একাধিক সিটিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিন দিনেও মামলা হয়নি

সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ীদের সম্পর্কে জানতে কমপক্ষে ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

জানতে চাইলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ’

পুলিশ জানায়, মামলায় ডেলিভারিম্যান নাহিদকে হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিসংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হচ্ছে।

এডিসির থাপ্পড়ের বিষয়টি তদন্ত করছে

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ থামাতে প্রথমে আমরা চেষ্টা করেছি। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক এবং ছাত্রনেতাদের মাধ্যমে ছাত্রদের ক্যাম্পাসের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। একইভাবে ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের মার্কেটে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপির রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদ। গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় এক সদস্যকে তিনি ধাপ্পড় মেরেছেন, এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমি ভিডিও দেখিনি। রমনার ডিসি যদি রিপোর্ট করেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি দাবি

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। গতকাল ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।



এ সংবাদটি 22459 বার পড়া হয়েছে.
শেয়ার করুন




bdnewslive24.com

অস্থায়ী অফিসঃ বন্ধন বি- এয়ারপোর্ট-রোড, আম্বরখানা সিলেট।

ই-মেইলঃ admin@bdnewslive24.com

নিউজঃ 01737-969088

বিজ্ঞাপনঃ 01892-475100

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বে-আইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহেদ আহমদ।

 

প্রধান উপদেষ্টাঃ কবির উদ্দিন।

সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দঃ এডভোকেট নাসির উদ্দিন খাঁন, মোহাম্মদ বাদশা গাজী, মোঃ ইসলাম উদ্দিন।

 

বিডি নিউজ লাইভ ২৪ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  © ২০২১

          Design & Developed BY: Cloud Service BD