Bdnews Live24 | logo

১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পবিত্র রমাজান হচ্ছে রহমত, বরকত ও ক্ষমার মাস

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৮, ২০২০, ০৪:৫৭

পবিত্র রমাজান হচ্ছে রহমত, বরকত ও ক্ষমার মাস

ইসলামিক ডেস্কঃ সকল প্রশংসা সেই মহান সত্তার আল্লাহ রব্বুল আলামিনের যার সামনে কাল হাশরের ময়দানে তার অনুমতি ব্যতীত কেউ কথা বলার সাহস পাবে না, যিনি এই মহা বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি। সালাত ও সালাম পেশ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব, বিশ্ব মানবতার মুক্তির পয়গাম বাহী, এই মহাবিশ্বের রহমত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, জান্নাতে পৌছানোর অনেক গুলো রাস্তা বাতলে দিয়েছেন, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পবিত্র রমাদান। যেমন রমাদান প্রসঙ্গে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, “বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম”। (সূরা ইউনুস : ৫৮)

পবিত্র রমাদান হচ্ছে রহমতের মাস, বরকতের মাস, কল্যাণের মাস, ক্ষমার মাস, কুরআনের মাস যা এখন আমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কি রমজানের এই মহামূল্যবান সময়গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি? আসুন না একটি তালিকা তৈরি করি যেন এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তে নেকী কুড়িয়ে আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারি। আমাদের প্রতি আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে অনুগ্রহ ও দয়ার কথা বলেছেন সেটি যেন অর্জন করতে পারি।

ফজর পূর্বে:

(১) আল্লাহর দরবারে তাওবা-ইস্তেগফার ও দুয়া: কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করে বলেন: “কে আছে আমার কাছে দুআকারী, আমি তার দুআ কবুল করবো”।[ মুসলিম ]

(২) সাহরী ভক্ষণ : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : “সাহরী খাও। কারণ সাহরীতে বরকত আছে”।[বুখারী , মুসলিম ]

ফজর হওয়ার পর:

(১) ফজরের সুন্নত আদায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : “ফজরের দুই রাকাআত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা আছে তার থেকে উত্তম”। [ মুসলিম ]

(২) ইকামত পর্যন্ত দুআ ও যিকিরে মশগুল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : “আযান ও ইকামতের মাঝে দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না”।[আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ]

(৩) ফজরের নামায আদায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :“তারা যদি ইশা ও ফজরের ফযীলত জানতো, তো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত”। [বুখারী ও মুসলিম]

(৪) সূর্যোদয় পর্যন্ত সকালে পঠিতব্য দুআ-যিকর ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মসজিদে অবস্থান: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর নামাযের পর নিজ স্থানেই সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করতেন”। [ মুসলিম ]

(৫) সূর্যোদয়েরে পর দুই রাকাআত নামায নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি জামায়াতের সহিত ফজরের নামায পড়লো, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকর করলো, তারপর দুই রাকাআত নামায আদায় করলো, তার জন্য এটা একটি পূর্ণ হজ্জ ও উমরার মত “। [ তিরমিযী ]

(৬) নিজ নিজ কর্মে মনোযোগ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “নিজ হাতের কর্ম দ্বারা উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাবার নেই”। [ বুখারী ]

যহরের সময় :

(১) জামায়াতের সহিত যহরের নামায আদায়। অতঃপর কিছুক্ষণ কুরআন কিংবা অন্যান্য দীনী বই পাঠ করা পরে আসর পর্যন্ত বিশ্রাম করা।

আসরের সময় :

(১) আসরের নামায জামাতের সাথে সম্পাদন: অতঃপর ইমাম হলে নামাযীদের উদ্দেশ্যে দারস প্রদান কিংবা দারস শ্রবণ কিংবা ওয়ায নসীহতের ক্যাসেট ও সিডির মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি মসজিদে ভাল কিছু শিক্ষা নিতে কিংবা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে গেল, সে পূর্ণ এক হজ্জের সমান নেকী পেল”। [ ত্ববারানী ]

(২) পরিবারের সদস্যদের সাথে ইফতারির আয়োজনে সহায়তা করা: এর মাধ্যমে যেমন কাজের চাপ হাল্কা হয়, তেমন পরিবারের সাথে ভালবাসাও বৃদ্ধি পায়।

মাগরিবের সময়:

(১) ইফতারি করা এবং এই দুআ পাঠ করা: “যাহাবায্ যামাউ ওয়াব্ তাল্লাতিল্ উরূকু ওয়া সাবাতাল্ আজরু ইন্ শাআল্লাহু তাআলা”। অর্থ: পিপাষা নিবারিত হল, রগ-রেশা সিক্ত হল এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নির্ধারিত হল। [ আবূ দাউদ ]

(২) মাগরিবের নামায জামায়াতের সাথে আদায় করা যদিও ইফতারি পূর্ণরূপে না করা যায়। বাকি ইফতারি নামাযের পর সেরে নেয়া মন্দ নয়। অতঃপর সন্ধ্যায় পঠিতব্য যিকির-আযকার পাঠ করে নেয়া।

(৩) স্বভাবানুযায়ী রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে একটু বিশ্রাম করে তারাবীর নামাযের জন্য প্রস্তুতি নেয়া।

ইশার সময় :

(১) জামায়াতের সহিত ইশার নামায আদায় করা।

(২) ইমামের সাথে সম্পূর্ণ তারাবীর নামায আদায় করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় রমজানে কিয়াম করবে, (তারাবীহ পড়বে) তার বিগত সমস্ত (ছোট গুনাহ) ক্ষমা করা হবে”। [বুখারী ও মুসলিম]

(৩) সম্ভব হলে বিতরের নামায শেষ রাতে পড়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমরা বিতরকে রাতের শেষ নামায কর”। [মুত্তাফিকুন আলাইহ]

আমাদেরকে উনি জাহান্নাম থেকে নাজাতের ব্যবস্থা করেন, -আমিন।



এ সংবাদটি 3992 বার পড়া হয়েছে.
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  




bdnewslive24.com

অস্থায়ী অফিসঃ বন্ধন বি- এয়ারপোর্ট-রোড, আম্বরখানা সিলেট।

ই-মেইলঃ admin@bdnewslive24.com

নিউজঃ 01737-969088

বিজ্ঞাপনঃ 01892-475100

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বে-আইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহেদ আহমদ।

 

প্রধান উপদেষ্টাঃ কবির উদ্দিন।

সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দঃ এডভোকেট নাসির উদ্দিন খাঁন, মোহাম্মদ বাদশা গাজী, মোঃ ইসলাম উদ্দিন।

 

বিডি নিউজ লাইভ ২৪ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  © ২০২১

          Design & Developed BY: Cloud Service BD