ইরানের সব বন্দরে নৌযান চলাচলের অবরোধ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | bdnewslive24.com
ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া সব ধরনের নৌযানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের লাইভ প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর কোনো বাধা দেবে না।
তবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্তাবলি সম্পর্কে সেন্টকম তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের ডিজিটাল চুক্তি
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটালভাবে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই এটি কার্যকর হয়।
সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে সহযোগিতা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৬০ দিনের নতুন আলোচনা শুরু
চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।