শূন্যরেখায় মানবিক বিপর্যয়: ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুর আর্তনাদ, বৃষ্টিতে ভিজেই কাটছে দিন। অনলাইন ডেক্স | ৬ জুন ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে এক হৃদয়বিদারক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টার পর ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশু এখনো দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত ৩ জুন গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অনিশ্চয়তা শুক্রবার রাত পর্যন্তও কাটেনি। টানা বৃষ্টি, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের কান্না ও আহাজারি যেন পৌঁছাচ্ছে না কোনো কর্তৃপক্ষের কানে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ৪ জুন ভোররাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবির টহল দল তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়।
আটকে পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুদ জানান, বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পতাকা বৈঠকে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবস্থান করে থাকলে তাদের বিষয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাউকে পুশ-ইন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত এ সংকটের সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
সীমান্তে আটকে থাকা ২৮ জনের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। দুই দেশের আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় তারা খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও দুর্ভোগের মধ্যেই সময় পার করছেন।