লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইতালি? সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানোর কঠোর ঘোষণা।
লিবিয়া বা অন্য কোনো দেশ হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আর দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ মিলবে না। নতুন আইনের আওতায় এমন ব্যক্তিদের সীমান্তেই আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস।
সোমবার (১৫ জুন) এক বার্তায় ইতালি দূতাবাস জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন গত ১২ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের আওতায় অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ইতালির সীমান্তেই শনাক্ত ও আটক করা হবে। পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি তারা ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস কিংবা কাজ করার সুযোগও হারাতে পারেন।
এ সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের দালাল, মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্রের মিথ্যা প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাস বলেছে, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এসব চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় এবং অসংখ্য মানুষকে জীবনঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা মানবপাচারকে উৎসাহিত করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে ইতালিতে বৈধভাবে কাজ, পড়াশোনা ও বসবাসের সুযোগ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। বার্তায় বলা হয়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা এবং পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।
ইতালি দূতাবাস জোর দিয়ে বলেছে, যারা ইতালিতে যেতে আগ্রহী, তাদের অবশ্যই বৈধ ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অবৈধ পথে যাওয়ার চেষ্টা শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং ভবিষ্যতে ইতালিতে প্রবেশ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও নষ্ট করে দিতে পারে।
তাই নিরাপদ ও স্থায়ী ভবিষ্যতের জন্য বৈধ পথেই ইতালিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।