সাজেকে আবারও উত্তেজনা, অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে গুলি বিনিময়।
পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তায় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা
অনলাইন ডেক্স: রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে আবারও উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং অবরোধের খবরকে কেন্দ্র করে গুলি বিনিময় পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণার বিষয়টি সামনে আসায় পর্যটক ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ের সারি, মেঘের আনাগোনা ও মনোরম পরিবেশের কারণে সাজেক দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে পর্যটকদের আগমন, হোটেল-রিসোর্টের কার্যক্রম এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ে পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা, আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ইউপিডিএফ, জেএসএসসহ বিভিন্ন সংগঠনকে ঘিরে নানা অভিযোগও রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় সংঘাত, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড কিংবা সশস্ত্র তৎপরতার ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে সাজেকের পর্যটন খাত সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটকদের জন্য সতর্কতা
সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের যাত্রার আগে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ বা পর্যটকদের যাতায়াতে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনসম্ভাবনা ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
BDNewsLive24.com — সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন