• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
ইমাম হোসেন (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী। ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত, থাকবে ৩০ জুন পর্যন্ত ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে পদায়ন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে টোল মওকুফ ঘোষণা ইরানের ইরানের সব বন্দরে নৌযান চলাচলের অবরোধ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র নির্মাণাধীন মাদরাসার ওয়াশরুমে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা রিভলবার উদ্ধার সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক বাতিল, এমওইউ স্বাক্ষরের পর নতুন মোড়। শিশু আয়াত হত্যা মামলায় রায়: আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪

ইমাম হোসেন (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।

মোঃ সাইদুর রহমান / ৭৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

ইমাম হোসেন (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
ইমাম হোসেন ইবনে আলী ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।

জন্ম
জন্ম: ৩ শাবান, ৪ হিজরি (প্রায় ৬২৬ খ্রিস্টাব্দ)

জন্মস্থান: মদিনা

পিতা: আলী ইবনে আবি তালিব

মাতা: ফাতিমা যাহরা

নানা: মুহাম্মদ (সা.)

নবী (সা.) ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হোসেন (আ.)-কে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। হাদিসে এসেছে, “হাসান ও হোসেন জান্নাতের যুবকদের নেতা।”

শৈশব
ইমাম হোসেন (আ.) নবী (সা.)-এর সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠেন।

তিনি ছিলেন—

সত্যবাদী

সাহসী

দয়ালু

আল্লাহভীরু

গরিবের বন্ধু

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম সমাজে নেতৃত্বের প্রশ্নে মতপার্থক্য দেখা দেয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন খলিফার শাসনের পর উমাইয়া শাসক মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান ক্ষমতায় আসেন।

৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া শাসক হন।

কেন বিরোধ সৃষ্টি হয়?
ইয়াজিদ সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে আনুগত্য (বাইআত) চাইলে ইমাম হোসেন (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী তাঁর আপত্তির কারণ ছিল—

অন্যায় শাসনের বিরোধিতা

ইসলামের নৈতিক আদর্শ রক্ষা

সত্য প্রতিষ্ঠা

তিনি বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং উম্মাহর সংস্কার এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন।

কুফার মানুষের আহ্বান
কুফা-এর বহু মানুষ ইমাম হোসেন (আ.)-কে চিঠি লিখে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি তাঁর চাচাতো ভাই মুসলিম ইবনে আকীল-কে পরিস্থিতি যাচাই করতে পাঠান।

কিন্তু পরে কুফার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায় এবং মুসলিম ইবনে আকীল শহীদ হন।

কারবালার পথে
ইমাম হোসেন (আ.) পরিবার ও অল্পসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে মক্কা ত্যাগ করেন।

পথে তাঁকে উমাইয়া বাহিনী থামিয়ে দেয়।

তাঁদেরকে কারবালা-য় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়।

কারবালার অবরোধ
২ মহররম ৬১ হিজরিতে তাঁরা কারবালায় পৌঁছান।

পরবর্তীতে ফুরাত নদীর পানি তাঁদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শিশু, নারী ও পুরুষ সবাই তীব্র পানির সংকটে পড়েন।

আশুরার দিন
১০ মহররম ৬১ হিজরি (১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ)

কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ইমাম হোসেন (আ.)-এর সঙ্গে ছিলেন তাঁর পরিবার ও অল্পসংখ্যক সঙ্গী (ঐতিহাসিক সূত্রভেদে প্রায় ৭২ জনের কথা উল্লেখ করা হয়)।

উমাইয়া বাহিনী ছিল বহু গুণ বড়।

ক্রমে তাঁর সঙ্গীরা শহীদ হন।

আলী আসগর (আ.)
ইমাম হোসেন (আ.)-এর ছয় মাস বয়সী শিশু পুত্র আলী আসগর-ও ঐতিহ্যগত বর্ণনা অনুযায়ী তীরবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

আব্বাস (আ.)
আব্বাস ইবনে আলী পানি আনতে গিয়ে শহীদ হন।

তাঁর সাহসিকতা মুসলিম ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

ইমাম হোসেন (আ.)-এর শাহাদাত
সবশেষে ইমাম হোসেন (আ.) একাই যুদ্ধক্ষেত্রে অবশিষ্ট থাকেন।

তিনি সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেন এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হন।

তাঁর শাহাদাত ইসলামের ইতিহাসে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

পরিবারের সদস্যদের বন্দিত্ব
যুদ্ধের পর নারী ও শিশুদের বন্দী করা হয়।

তাঁদের কুফা এবং পরে দামেস্ক-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

জয়নাব বিনতে আলী ও আলী ইবনে হুসাইন (ইমাম জয়নুল আবেদীন)-এর ভাষণ কারবালার ঘটনার বার্তা মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কারবালার শিক্ষা
কারবালার ঘটনা থেকে মুসলিমরা বিভিন্ন শিক্ষা গ্রহণ করেন—

সত্যের জন্য আপসহীন থাকা

জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো

ন্যায় প্রতিষ্ঠা

ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা

আত্মত্যাগ

মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা

আশুরা ও আরবাঈন
প্রতি বছর ১০ মহররম আশুরা পালিত হয়।

শহীদ হওয়ার ৪০ দিন পর থেকে আরবাঈন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি কোটি মানুষ কারবালায় যান।

ইমাম হোসেন (আ.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি
“আমি ক্ষমতা বা দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য বের হইনি; আমি আমার নানার উম্মাহর সংস্কারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি।”

উপসংহার
ইমাম হোসেন (আ.)-এর জীবন শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং ন্যায়, সত্য ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে স্মরণীয়। কারবালার ঘটনা আমাদের শেখায় যে সত্য ও ন্যায়ের জন্য প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগও মহৎ হতে পারে।

No file chosen


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা